ফ্রি ডলার ইনকাম করুন এই ৭টি উপায়ে
বর্তমান সময়ে যেকোনো চাকরি বা ব্যবসা করে টাকা ইনকাম করার চেয়ে অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করা অধিক সহজ। তাই আপনি যদি ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে ডলার ইনকাম করার কথা ভাবছেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার অনেক কাজে আসবে।
কেননা আজকের আর্টিকেলে আমি ফ্রি ডলার ইনকাম করার সেরা উপায়গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি। আপনারা অনলাইনে অযথা সময় নষ্ট না করে এসব উপায়ে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
এমনিতে ঘরে বসে ফ্রি টাকা ইনকাম করার অনেক সহজ উপায় রয়েছে, যেগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই অনলাইন থেকে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
তবে বর্তমানে ডলার রেট দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারে টাকা ইনকাম করাটা অধিক লাভজনক। আর মজার বিষয় হলো ফ্রিতে ডলার ইনকাম সাইট বা ডলার ইনকাম করার অ্যাপস গুলোতে কাজ করার জন্য কোনো ধরনের বিনিয়োগ করতে হয় না।
অনলাইনে কাজ করে ডলার ইনকাম করার জন্য সেরা কিছু ডলার ইনকাম করার ওয়েবসাইট সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানিয়ে দিবো। এসব সাইটে আপনি মোবাইল দিয়ে কাজ করে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
অনলাইনে ডলার ইনকাম সাইট থেকে কিভাবে ডলার আয় করা যায়?
এমনিতে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার নানা ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব সাইটে আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে ডলারে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইন থেকে ডলার আয় করার জন্য মূলত পাঁচ ধরনের ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্ম রয়েছে।
এগুলো হলো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, এড নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, ব্লগ বা ওয়েবসাইট ক্রয় বিক্রয়ের প্লাটফর্ম এবং বিভিন্ন মাইক্রো-টাস্ক ওয়েবসাইট।
ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো থেকে আপনি আপনারত দক্ষতা (skill) অনুযায়ী ক্লায়েন্টের বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে ডলার ইনকাম করার দারুণ সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এসব সাইট থেকে আপনারা এফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সর্ড পোস্ট কিংবা পেইড সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতিতে ডলারে টাকা আয় করতে পারবেন।
অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য ব্লগিং সবচেয়ে সহজ কাজ হিসেবে বিবেচিত। আপনার ব্লগকে অ্যাড নেটওয়ার্ক সাইটের সাথে কানেক্ট করে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
ওয়েবসাইট ক্রয়-বিক্রয়ের প্লাটফর্মে ব্লগ বা ওয়েবসাইট বিক্রয় করে মুহূর্তের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডলার কামানো সম্ভব।
আর মাইক্রো-টাস্ক ওয়েবসাইটগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট অনলাইন কাজ করে সামান্য পরিমাণ ডলার আয় করতে পারবেন। যেমন – গেম খেলা, ভিডিও দেখা, সার্ভে সম্পূর্ণ করা, অ্যাপ ডাউনলোড করা, এড দেখে টাকা ইনকাম ইত্যাদি। এসব সাইট থেকে কোনো বিশেষ দক্ষতা ছাড়াই ইনকাম করা যায়।
ফ্রি ডলার ইনকাম করার জন্য কি কি লাগবে?
বর্তমানে অনলাইন থেকে ডলার উপার্জন করা কঠিন কোনো কাজ নয়। প্রথমত, আপনার কাছে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকলেই ইন্টারনেটে ডলার ইনকাম করার জন্য কাজ শুরু করতে পারবেন। আপনি চাইলে মোবাইল দিয়েও কাজ করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। ইন্টারনেট স্পিড ভালো থাকলে কাজ করতে আপনি সুবিধা পাবেন।
তৃতীয়ত, আপনার ইনকাম করা ডলার উঠানোর জন্য ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। আপনার বয়স ১৮ বছর না হলে পিতা-মাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাংক একাউন্টের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ অথবা রকেট একাউন্ট থাকতে হবে।
পরিশেষে, অনলাইন থেকে ডলার আয় করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সময় ও শ্রম দিয়ে কাজ করলে তবেই সফল হতে পারবেন।
অনলাইনে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করার সেরা ৭টি উপায়

আজকাল অনলাইনে ডলার ইনকাম করার অনেক উপায় আপনি খুঁজে পাবেন। কিন্তু সকল উপায় রিয়েল নয়। অনলাইনে ডলার কামানোর নির্দিষ্ট কিছু রিয়েল উপায় রয়েছে। এসব উপায়ে আপনি খুব সহজেই ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
এখন আমি আপনাদের ইন্টারনেট থেকে ডলার ইনকাম করার যেসকল উপায়ের বিষয়ে জানাবো, এগুলোতে আপনাকে কোনো ধরনের ইনভেস্ট করতে হবে না।
বিনিয়োগ না করেই আপনি এসব উপায়ে বাড়িতে বসে ডলার ইনকাম করতে পারবেন এবং সেই ডলার সহজেই টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন।
তাহলে চলুন অনলাইন থেকে ডলার ইনকাম করার নিশ্চিত উপায়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
১. ব্লগে লেখালেখি করে ডলার ইনকাম করুন
বর্তমান সময়ে ডলারে টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক উপায় হলো ব্লগে লেখালেখি করা। আপনার লেখালেখি করার শখ থাকলে খুব সহজে এই কাজটি করতে পারবেন।
বিশ্বজুড়ে প্রচুর পরিমাণে লোকেরা বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে সার্চ করে থাকে।
আপনি যদি নিজের ব্লগে ভালো ভালো আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করেন, তাহলে লোকেরা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে আপনার ব্লগটি খুঁজে পাবে এবং আপনার লেখা আর্টিকেল পড়বে। এভাবে যত বেশি লোকেরা আপনার ব্লগে ভিজিট করবে, তত বেশি পরিমাণে ডলার আপনি ইনকাম করতে পারবেন।
ব্লগে লেখালেখি করে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ব্লগ বানাতে হবে। আপনি Google Blogger এর সাহায্যে সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। আপনি চাইলে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েও একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারেন।
ওয়েবসাইট বানানোর পর আপনাকে নিয়মিত নতুন নতুন আর্টিকেল লিখতে হবে। আপনি প্রতিনিয়ত লিখতে পারবেন এরকম একটি বিষয় নিয়ে ব্লগ তৈরি করবেন। উদাহরণস্বরূপ, পড়াশোনা, খেলাধুলা, টেকনোলজি, গল্প ইত্যাদি যেকোনো বিষয় নিয়ে আপনার ব্লগে লেখালেখি করতে পারেন।
নিয়মিত কাজ করতে থাকলে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়তে থাকবে। ৩০ থেকে ৫০টি ভালো মানের কনটেন্ট পাবলিশ করার পর আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
গুগল কিছুদিনের মধ্যে আপনার এপ্লিকেশনটি রিভিউ করে দেখবে। ব্লগে কোনো সমস্যা না থাকলে এডসেন্স আপনার ব্লগকে অনুমোদন দিয়ে দিবে। এরপর ব্লগের আর্টিকেলে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করতে পারবেন।
লোকেরা আপনার ব্লগে এসে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে এবং ক্লিক করলে আপনার এডসেন্স একাউন্টে ডলার জমা হবে। ১০০ ডলার জমা হয়ে গেলে আপনি সেটা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে উইথড্র করতে পারবেন।
নিয়মিত কাজ করলে একটি নতুন ব্লগ শুরু করার পর ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া সম্ভব। আর এডসেন্স এপ্রুভাল পেয়ে গেলে আপনার গুগল থেকে ডলার ইনকাম হওয়া শুরু হবে।
২. ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে ডলার আয় করুন
এখনকার সময়ে ঘরে বসে একদম ফ্রিতে টাকা ইনকাম করার জন্য ইউটিউব হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম।
আমাদের দেশের প্রচুর পরিমাণে লোকেরা ইউটিউবে তাদের বানানো ভিডিও আপলোড করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছেন।
ইউটিউব হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট। প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা হচ্ছে। আর এসব ভিডিও যারা আপলোড করছে, তারা বিভিন্ন উপায়ে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করছেন।
আপনিও চাইলে বিনিয়োগ ছাড়াই ইউটিউব থেকে ফ্রি ডলার ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যেকোনো বিষয়ের একটি ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে সেখানে ভিডিও আপলোড করতে পারবেন।
ভিডিও বানানোর জন্য আপনার ডিএসএলআর ক্যামেরা থাকার দরকার নেই। আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়েই আপনি ভিডিও করতে পারবেন এবং ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এর সাহায্যে ভিডিও এডিট করতে পারবেন।
আপনি যদি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে বা আপনার ফেইস দেখাতে লজ্জাবোধ করেন, তাহলে আপনি ফেইস না দেখিয়েও বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।
কয়েকটি জনপ্রিয় ইউটিউব ভিডিও টপিক হলো টিউটোরিয়াল ভিডিও, ফানি ভিডিও, প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও, শিক্ষামূলক ভিডিও ইত্যাদি। এগুলোর যেকোনো একটিকে আপনার চ্যানেলের নিশ (niche) হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
নিয়মিত চ্যানেলে নতুন নতুন ভিডিও আপলোড করতে থাকলে ভিউস ও সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘন্টা ভিডিও ওয়াচ টাইম পূরণ হয়ে গেলে ইউটিউব মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মনিটাইজেশন পেয়ে গেলে আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন (advertisements) দেখিয়ে ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন। লোকেরা বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে আপনার Google AdSense একাউন্টে ডলার জমা হবে। ১০০ ডলার হয়ে গেলেই আপনি bank account এর মাধ্যমে payment নিতে পারবেন।
যদি আপনার ইউটিউব চ্যানেলে লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবার থাকে, তাহলে মনিটাইজেশনের পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং স্পন্সরশীপ এর মাধ্যমে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
৩. ফেসবুকে কনটেন্ট বানিয়ে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করুন
বর্তমানে ফেসবুক সকল ব্যবহারকারীদের ফেসবুক থেকে ইনকাম করার একটি বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এখন যেকেউ চাইলে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল কিংবা পেইজে মনিটাইজেশন চালু করে আয় করতে পারেন।
আমরা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা ফেসবুকে নষ্ট করে থাকি। অযথা এই সময়টা নষ্ট না করে কাজে লাগালেই আপনিও ফেসবুক থেকে ডলার কামাতে পারবেন।
ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়া অনেক সহজ। নিয়মিত কাজ করলে আপনি এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ফেসবুক প্রোফাইল বা পেইজে মনিটাইজেশন চালু করে নিতে পারবেন।
মনিটাইজেশন ছাড়াও ফেসবুক থেকে আরও বিভিন্ন পদ্ধতিতে ডলার ইনকাম করা যায়। ফেসবুক থেকে ফ্রি ডলার ইনকাম করার প্রত্যেকটি উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো –
- ফেসবুক ভিডিও আপলোড করে মনিটাইজ করা
- কনটেন্ট মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ফটো ও পোস্ট থেকে আয়
- ফেসবুক স্টার প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে আয়
- রিলস ভিডিও বানিয়ে ইনকাম
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়
- স্পন্সর্ড কনটেন্ট এর মাধ্যমে আয়
- নিজের পণ্য বিক্রি করে ইনকাম
- ফেসবুকের মাধ্যমে ড্রপশিপিং বিজনেস পরিচালনা করা
- ফেসবুক থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ইনকাম
উপরে বলা প্রতিটি উপায়ে বিশ্বজুড়ে প্রচুর পরিমাণে লোকেরা ফেসবুক থেকে ডলার ইনকাম করছেন।
আপনিও ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে যেকোনো একটি উপায় বেছে নিতে হবে। আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা পেইজে ফলোয়ার বাড়াতে হবে। ফেসবুকে আপনার হাজার হাজার ফলোয়ার থাকলে একাধিক উপায়ে ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে পারবেন।
অবশ্যই পড়ুন – কিভাবে ফেসবুক স্টার থেকে টাকা ইনকাম করা যায়?
৪. ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার ইনকাম করুন
ফ্রিল্যান্সিং এর কথা শোনেননি এরকম লোক বর্তমানে খুব কম পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ লোকেরা অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা বলতে ফ্রিল্যান্সিংকে বুঝে থাকেন।
আসলেই ফ্রিল্যান্সিং অনলাইনে ইনকামের একটি অন্যতম মাধ্যম। আপনি পার্ট-টাইম অথবা ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে ঘরে বসে ডলার কামাতে পারবেন।
বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার তাদের বাড়িতে বসে অনলাইনে কাজ করে মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য কাজের দক্ষতা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যে কাজটি করবেন, সেই কাজের বিষয়ে যথেষ্ঠ দক্ষতা আপনাকে অর্জন করতে হবে।
বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো –
- গ্রাফিক্স ডিজাইন
- ভিডিও এডিটিং
- ওয়েব ডিজাইন
- ডাটা এন্ট্রি
- ট্রান্সলেশন
- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
- ডিজিটাল মার্কেটিং
- কনটেন্ট রাইটিং
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য উপরে বলা যেকোনো একটি কাজ আগে আপনাকে শিখে নিতে হবে। আপনি চাইলে ইউটিউবের মাধ্যমে কাজ শিখতে পারবেন।
এরপর আপনাকে যেকোনো একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। Fiverr, Upwork, Freelancer, PeoplePerHour ইত্যাদি যেকোনো একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আপনি একাউন্ট খুলতে পারেন।
একাউন্ট বানানোর পর আপনার স্কিলগুলো সুন্দরভাবে আপনার প্রোফাইলে তুলে ধরতে হবে। আপনার প্রোফাইল দেখে বায়ার বা ক্লায়েন্ট তার কাজের জন্য আপনাকে হায়ার করবে।
ক্লায়েন্টের কাজ শেষ করে ডেলিভারি দেওয়ার পর সেই কাজের জন্য নির্ধারিত ডলার আপনার একাউন্টে পেয়ে যাবেন। আপনার উপার্জিত ডলার আপনি সরাসরি বাংকের মাধ্যমে টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন।
একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠতে পারলে আপনি ঘন্টা হিসেবে ক্লায়েন্টের কাজ করে ডলার কামাতে পারবেন। দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি মাসে খুব সহজেই ১০০০ ডলার ইনকাম করেন, যা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে ১ লাখেরও বেশি।
৫. অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ডলারে টাকা ইনকাম করুন
আপনি কি জানেন অনলাইনে নিজের তোলা ফটো বা ছবি বিক্রি করে টাকা ইনকাম করা যায়?
হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন। আপনি চাইলে নিজের তোলা ফটো অনলাইনে সেল করে ফ্রি ডলার ইনকাম করতে পারবেন। ইন্টারনেটে বেশ কিছু স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলোতে আমরা আমাদের ছবিগুলো বিক্রি করতে পারি।
কয়েকটি জনপ্রিয় স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট হলো –
- Pixabay
- Alamy
- Pixels
- Shutterstock
- Getty Images
- iStock
- Adobe Stock
এসব সাইটে ছবি আপলোডের জন্য আপনার DSLR ক্যামেরা থাকার প্রয়োজন নেই। যদি আপনার কাছে একটি ভালো মানের ক্যামেরা থাকা স্মার্টফোন থাকে, তাহলে সেটা দিয়েই আপনি ফটোগ্রাফির কাজ করতে পারবেন।
আজকাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটাররা তাদের বানানো কনটেন্টে ব্যবহারের জন্য স্টক ইমেজ সাইটগুলো থেকে ফটো বা ছবি ক্রয় করে থাকে। এ কারণে এই ধরনের স্টক ফটোর চাহিদা প্রচুর রয়েছে।
অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করার জন্য প্রথমে আপনাকে উপরে বলা যেকোনো একটি ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর কিছু ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর আপনার ছবিগুলো তারা যাচাই বাছাই করে দেখবে। যদি ইমেজ কোয়ালিটি ভালো থাকে তাহলে আপনার একাউন্টটি এপ্রুভ হয়ে যাবে।
একাউন্ট অনুমোদন পাওয়ার পর আপনি নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো ছবি সেই সাইটে আপলোড করতে পারবেন।
যখন কেউ আপনার ছবি গুলো সেই সাইট থেকে কিনবে, তখন আপনার একাউন্টে ডলার জমা হয়ে যাবে। এভাবে আপনি ইন্টারনেটে ফটো সেল করে ইনকাম করতে পারবেন।
৬. ওয়েবসাইট বিক্রি করে ডলার আয় করুন
আপনি জানলে অবাক হবেন যে, ওয়েবসাইট বিক্রি করে একসাথে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা সম্ভব। আমি নিজেও এই পদ্ধতিতে অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমাণে ডলার ইনকাম করছি।
এজন্য প্রথমে আপনাকে একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ যে বিষয়ের উপর আপনার সাইটে কনটেন্ট পাবলিশ করবেন সেটা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আপনাকে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট বানাতে হবে।
আপনি খুব কম খরচে একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। ২০০০ টাকা খরচ করেই এক বছরের একটি ডোমেইন হোস্টিং প্যাকেজ ক্রয় করে ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন। ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় এবং ওয়েবসাইট বানানোর টিউটোরিয়াল ইউটিউবে পেইয়ে যাবেন।
সাইট বানানো হয়ে গেলে আপনাকে নিয়মিত ভালো মানের কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে। এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লিখে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর আনতে হবে। কপিরাইট কনটেন্ট কোনোভাবেই পাবলিশ করা যাবে না।
তারপর আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল এডসেন্স এর সাথে কানেক্ট করতে হবে। ওয়েবসাইটের কনটেন্টে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকলে গুগল এডসেন্স আপনার সাইটকে অনুমোদন দিয়ে দিবে। সাইটে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ডলার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।
আপনি চাইলে সাইটে আরও ভালো পরিমাণে ভিজিটর এনে সাইটটি হাই প্রাইসে বিক্রি করতে পারবেন। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে এ ধরনের ওয়েবসাইট বিক্রি করে ডলার ইনকাম করা যায়।
আপনি চাইলে বাংলাদেশি বিভিন জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপেও এডসেন্স ও ওয়েবসাইট সেল করতে পারেন। একটি ভালো অর্গানিক ভিজিটর থাকা ওয়েবসাইট আপনি সহজেই ১০০০ ডলারে বিক্রি করতে পারবেন, যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখেরও অধিক,
এভাবে নিজের বানানো ওয়েবসাইট বিক্রি করে ফ্রি ডলার ইনকাম করার জন্য আপনাকে সামান্য কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।
অবশ্যই পড়ুন – ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?
৭. মাইক্রো-টাস্ক ওয়েবসাইটে কাজ করে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করুন
উপরে বলা প্রত্যেকটি উপায়ে আপনি দীর্ঘমেয়াদী টাকা ইনকাম করতে পারবেন এবং কাজগুলো করার জন্য আপনাকে আগে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তবে আপনি যদি বিশেষ কোনো দক্ষতা ছাড়াই অনলাইনে ডলার ইনকাম করতে চান, তাহলে আপনাকে মাইক্রো-টাস্ক ওয়েবসাইটগুলোতে কাজ করতে হবে।
এসব সাইটে আপনি ছোট ছোট অনলাইন কাজগুলো করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, এই সাইটগুলোতে কাজ করে আপনি খুব বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন না। শুধুমাত্র আপনার পকেট খরচের টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
কারণ এই ওয়েবসাইট গুলোতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয় এবং বিনিময়ে খুব কম পরিমাণে ডলার দিয়ে থাকে।
তবে আপনার হাতে যদি অনেক সময় থাকে এবং এই সময়টা দিয়ে অল্প পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে চান, তাহলে এই সাইটগুলোতে আপনি কাজ করতে পারেন।
ফ্রি ডলার ইনকাম করা যাবে এরকম কয়েকটি সেরা মাইক্রো-টাস্ক ওয়েবসাইট ও অ্যাপসের তালিকা নিচে দেওয়া হলো –
- JumpTask
- ySense
- Freecash
- Kashkick
- InboxDollars
- MyPoints
- ClipClaps
- Paidwork
- Pocket Money
আগেই বলে রাখি, এই সাইটগুলো পেপাল এবং গিফট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে। তাই যদি আপনার পেপাল একাউন্ট না থাকে, তাহলে ডলার উইথড্র করতে ঝামেলায় পড়তে পারেন।
রিলেটেড আর্টিকেল –
- ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটগুলো
- অনলাইনে কুইজ খেলে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়
- অংক করে টাকা ইনকাম করার সেরা ৩টি অ্যাপস
- ফ্রি লটারী খেলে টাকা ইনকাম করুন অনলাইনে
উপসংহার
তাহলে বন্ধুরা, অনলাইনে কাজ করে ডলার ইনকাম করার সেরা উপায়গুলো আশা করি আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন।
যদি আপনি অনলাইন থেকে ফ্রি ডলার ইনকাম করতে চান, তাহলে উপরে বলা যেকোনো একটি উপায় বেছে নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।
মনে রাখবেন, যেকোনো কাজেই রাতারাতি সফল হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু উপরে বলা প্রত্যেকটি উপায়ে দীর্ঘমেয়াদী অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায়। তাই ইনকাম শুরু হতে আপনাকে প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হবে।
এই উপায়গুলোর মাধ্যমে আপনি প্রথমের দিকে পার্ট টাইম কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন। পরবর্তীতে ইনকামের পরিমাণ বেড়ে গেলে আপনি ফুল টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন।
স্টুডেন্টরাও চাইলে এসব উপায়ে ফ্রিতে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।
আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।
অবশ্যই পড়ুন –